কাতারে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী পালিত

জাকারীয়া খালিদ:: বাংলা ও বাঙালির অহংকার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের একদিকে অনন্ত প্রেম, অন্যদিকে বিদ্রোহ। কবিতায়, গানে, উপন্যাসে, গল্পে সর্বত্রই মানবমুক্তি প্রেমময় ও দ্রোহের বাণী। দুই-ই ঝঙ্কৃত হয়েছে জাতীয় কবি নজরুলের সৃষ্টিতে। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য, শোষণ, বঞ্চনা, কুসংস্কার, হীনম্মন্যতার বিরুদ্ধেও শিখিয়েছেন রুখে দাঁড়াতে।

অন্যদিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৷  বাঙালির জীবনজুড়ে আছে যাঁর অপার সৃষ্টি সম্ভার,তিনি ছিলেন একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক৷ ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জয় করেন রবি ঠাকুর৷ জাতীয় কবি ও বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ ২৬জুন মঙ্গলবার কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ স্কুল এন্ড কলেজ হল রুমে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগীতায় ও বাংলাদেশ স্কুলের আয়োজনে বিশেষ রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর আয়োজন করা হয়।

বাংলা বিভাগের সহকারী প্রভাষক ফারজানা শারমিনের উপস্থাপনায় ও স্কুলের পরিচালক ল্যা: কমান্ডার ( অব)মো: আনোয়ার খুরশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব আজগর হোসেন এবং বিশেষ অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের তৃতীয় সচিব মনিরুজ্জামান, স্কুলের অধক্ষ্য মো: জসিম উদ্দিন ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নজরুলের চেতনা ধারণ করার প্রতি গুরুত্বআরোপ করে বলেন, নজরুল একদিকে যেমন ছিলেন প্রেমের কবি অন্য দিকে ছিলেন বিদ্রোহী কবি। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙা যেমন শিখিয়েছেন তেমন মানব প্রেমও আমাদের শিখিয়ে গিয়েছেন। এই চেতনা যদি আমরা ধারণ করতে পারি তাহলে একদিকে আমাদের মধ্যে তৈরি হবে মানব প্রেম অন্যদিকে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো মানসিকতাও তৈরি হবে আমাদের মধ্যে।

অনুষ্ঠানের স্কুলের বাৎসরিক বিশেষ ম্যাগাজীনের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক,শিক্ষিকাদের অংশগ্রহনে  বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবি নজরুল ও রবিন্দ্রনাথের গান, কবিতা, নাচ পরিবেশন ও প্রবন্ধ পাঠ করা হয়।